যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বসে কাউন্টার টেরোরিজম বিশ্লেষক এরফান ফার্ড বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধযন্ত্র অকার্যকর করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে তেহরানকে প্রথমবারের মতো বোঝানো সম্ভব হয়েছে যে, আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের নিজেদের সামরিক শক্তিই এখন হুমকির মুখে পড়বে।
দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী ধরে ইরান বৈশ্বিক শিপিং ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার হুমকি দিয়ে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ১ সেপ্টেম্বর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাডার সিস্টেম, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সমুদ্রভিত্তিক সম্পদ ধ্বংসের মাধ্যমে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
ইরানের সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা এখনো বিপজ্জনক। দেশটির ছোড়া ড্রোন ও মিসাইল জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই যথেষ্ট নয়। তেহরান যদি বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেঁচে গিয়ে পুনরায় নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করে, তবে সেটি ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
ইরানের ক্ষেত্রে মার্কিন নীতির একটি সফল পরিণতির প্রয়োজন। এর অর্থ কোনো দখলদারিত্ব বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা নয়, বরং ইরানের অখণ্ডতা বজায় রেখে দেশটির এমন একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়ানোর সক্ষমতা থাকবে না।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটনকে এখন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি একটি সুসংগত রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ইরান ভবিষ্যতে আবারো তাদের ধ্বংস হওয়া নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। তাই এই চাপ অব্যাহত রেখে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোই বর্তমান মার্কিন নীতি নির্ধারকদের সামনে প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।