নেপালের রাসুয়া জেলায় হিমবাহ ও ভূমিধস থেকে সৃষ্ট প্রবল জলস্রোতে ত্রিশূলী নদীর বিস্তৃতি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। নেপাল সরকারের তথ্য ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক এই বিপর্যয়ের ফলে রাস্তাঘাট, সেতু ও বসতি ভেসে যাওয়ায় জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে।
উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, তিমুরে এলাকায় বন্যার আগে ত্রিশূলী নদীর প্রস্থ ৭৮ মিটার থাকলেও বর্তমানে তা ৩৫০ মিটারে দাঁড়িয়েছে। নুয়াকোটের চৌপথোকে এলাকায় নদীর বিস্তার ৬৫ মিটার থেকে বেড়ে ৪৪৩ মিটার হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি। এছাড়া স্যাব্রুবেশি ও বাত্তার এলাকাতেও নদীর ভয়াবহ বিস্তৃতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রবল স্রোতে বিপুল পরিমাণ পাথর ও কাদা নেমে আসায় নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে।
দীর্ঘ নয় দিন সুড়ঙ্গে আটকা থাকার পর ত্রিশূলী-৩ ‘এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দুই শ্রমিককে নেপাল সেনাবাহিনী জীবিত উদ্ধার করেছে। সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারজন নামের ওই দুই শ্রমিককে ১৭০ মিটার গভীর সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনা হয়। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। স্যাটেলাইটের আগে ও পরের ছবিগুলো হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।