যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে একটি দল চাঁদের উপরিভাগের নিচে লুকিয়ে থাকা বরফের মজুত খুঁজে বের করার নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। গবেষক নিকোলাস শমার জানিয়েছেন, মুনকোয়াক বা চাঁদের কম্পন বিশ্লেষণ করে মাটির অনেক গভীরে থাকা বরফের উপস্থিতি ও পরিমাণ নির্ভুলভাবে জানা সম্ভব। চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে ভবিষ্যতে মানববাহী মিশন পরিচালনার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় ২০২৮ সালের দিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে ছায়াময় গর্তগুলোতে বরফের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বরফ গলিয়ে নভোচারীদের জন্য পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। এটি চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী ঘাঁটি স্থাপনের জন্য অপরিহার্য সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
উপগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য কেবল চাঁদের পৃষ্ঠের উপরিভাগ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, কিন্তু গভীরে থাকা বরফ শনাক্ত করা কঠিন। গবেষকদের মতে, বরফযুক্ত মাটির মধ্য দিয়ে কম্পন বা সিসমিক তরঙ্গ শুষ্ক মাটির তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ দ্রুত প্রবাহিত হয়। মুনকোয়াকের মাধ্যমে এই তরঙ্গের গতি এবং এর প্রতিফলন বিশ্লেষণ করে বরফের মজুত ও ঘনত্ব নির্ণয় করা যাবে।
এই গবেষণায় অ্যারিজোনার আগ্নেয় শিলা ব্যবহার করে ল্যাবে পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে সিমুলেশন তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলগুলো সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, আগামীতে চীনের চ্যাং-ই ৭ মিশন এবং নাসার আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে পাঠানো সিসমোমিটার ব্যবহার করে এই তত্ত্বের বাস্তব পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।