যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি (আইএএস) এবং অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল ব্ল্যাক হোলের আচরণের একটি সার্বজনীন নিয়ম খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, ব্ল্যাক হোলের আকার বিশাল বা ছোট যাই হোক না কেন, মহাকাশে শক্তিশালী জেট নির্গমনের ক্ষেত্রে তারা একই গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে।
সাধারণত ব্ল্যাক হোলকে মহাজাগতিক ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বলা হলেও এদের খাবার গ্রহণের প্রক্রিয়া বেশ জটিল। যখন কোনো নক্ষত্র ব্ল্যাক হোলের খুব কাছে চলে আসে, তখন এর প্রচণ্ড মহাকর্ষীয় টানে নক্ষত্রটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ব্ল্যাক হোলটি হঠাৎ প্রচুর নাক্ষত্রিক উপাদান গ্রাস করার সুযোগ পায়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, ঠিক কোন সময়ে ব্ল্যাক হোল থেকে শক্তিশালী রেডিও জেট নির্গত হয়, তা মূলত এদের খাবার গ্রহণের হারের ওপর নির্ভর করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যখন ব্ল্যাক হোলের খাবার গ্রহণের হার এডিংটন লিমিটের প্রায় দুই শতাংশে নেমে আসে, তখনই এর থেকে জেট নির্গত হওয়া শুরু হয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র ব্ল্যাক হোল এবং মহাবিশ্বের বিশাল সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল—উভয়ের ক্ষেত্রেই এই দুই শতাংশের সীমাটি কাজ করে।
এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন আইএএস-এর গবেষক অ্যান্ড্রু মামারি এবং কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডেল গুডউইন। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে প্রকাশিত এই ফলাফলের জন্য তারা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন।
কেন এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ
বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই ধারণা করতেন যে, ব্ল্যাক হোলের ভরের বিশাল পার্থক্য থাকলেও তারা একই ভৌত নিয়ম মেনে চলে। তবে বিশাল আকৃতির ব্ল্যাক হোলের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বুঝতে লাখ লাখ বছর সময় লেগে যায় বলে এটি নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। কিন্তু নক্ষত্র ধ্বংসের এই প্রক্রিয়াগুলো (টাইডাল ডিসরাপশন ইভেন্ট) কয়েক বছরের মধ্যে ঘটে, যা গবেষকদের এই সার্বজনীন নিয়মটি পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই আবিষ্কারের ফলে ভবিষ্যতে ব্ল্যাক হোলের জেট নির্গমনের সময় আগেভাগে অনুমান করা সম্ভব হবে। এর ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপের সময় আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাজাগতিক ঘটনাগুলো আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। বিশেষ করে ২০২৮ সালে কার্যক্রম শুরু করতে যাওয়া স্কয়ার কিলোমিটার অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই তথ্য অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।