বাংলাদেশের ঢাকার কদমতলী থানার রায়েরবাগ এলাকার রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. নাঈম শেখের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। কারাগারে পাঠানো শিক্ষকরা হলেন হাফেজ মো. জাকারিয়া ও হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদ।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসাটির তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে নাঈম শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাঈমের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে রাতেই কদমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ওই দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগ
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাঈম ওই মাদ্রাসায় পড়ার সময় বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষকরা তাকে নিয়মিত নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নাঈম তার মাকে জানালে তিনি তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সোমবার দুপুরে নাঈম আর পড়তে চায় না জানালে শিক্ষকরা তাকে মারধর করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নাঈমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে পুলিশ।