যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগন। ২০২৬ অর্থবছরের অবশিষ্ট ব্যয় মেটাতে পেন্টাগন হিমশিম খাচ্ছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে বিষয়টি উঠে এসেছে। কংগ্রেসের দীর্ঘ ছুটি এবং নতুন সম্পূরক বাজেট অনুমোদনে অনিশ্চয়তার কারণে প্রতিরক্ষা খাত এখন বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে।
সম্প্রতি প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য রোজা ডেলোরো অভিযোগ করেছেন যে, পেন্টাগন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) থেকে গোপনে বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এনআইএইচ এবং হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির চেয়ারম্যান টম কোল দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত পেন্টাগনে এমন কোনো অর্থ স্থানান্তর করা হয়নি।
পেন্টাগনের এই আর্থিক সংকটের পেছনে প্রধানত ইরানের সাথে গত ছয় মাসের সামরিক সংঘাত, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে ন্যাশনাল গার্ডের মোতায়েনকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছ থেকে সীমান্ত অপারেশনের পূর্ণ অর্থ না পাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হোয়াইট হাউস জুন মাসে ৬৭.১ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট প্রস্তাব পাঠালেও নভেম্বরের নির্বাচনের আগে তা অনুমোদনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এমতাবস্থায় পেন্টাগনের হাতে থাকা অপশনগুলো অত্যন্ত সীমিত। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক মহড়া বাতিল করে সেই অর্থ অপারেশনাল খাতে স্থানান্তর করা, বেসামরিক কর্মীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা অথবা প্রকল্পের টাকা এদিক-সেদিক করা।
সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সাময়িক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকায়ন প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে নতুন বাজেট পাওয়া না গেলে এবং সম্পূরক তহবিল না মিললে পেন্টাগনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।