ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে হৃদরোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের (সিকেডি) মধ্যকার বিপজ্জনক সম্পর্ক ভেঙে নতুন চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রথম সমন্বিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় সোসাইটি অব কার্ডিওলজি (ESC)। ইউরোপীয় রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় তৈরি এই নির্দেশিকাটি ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এসসিসি কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থাপিত হয়েছে।
বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ১০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিডনি সমস্যার কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, আবার হৃদরোগও কিডনির কার্যকারিতা দ্রুত নষ্ট করতে পারে। এই পারস্পরিক সম্পর্ক অকাল মৃত্যু ও ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তা ত্বরান্বিত করে।
নতুন এই নির্দেশিকার প্রধান লক্ষ্য হলো হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনি সমস্যা আগেভাগে শনাক্ত করা। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় সম্ভব। টাস্ক ফোর্সের চেয়ার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর কেভিন ড্যামম্যান বলেন, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন সহজ কিছু চিকিৎসার মাধ্যমেই হৃদরোগ ও কিডনিজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব।
নির্দেশিকাটিতে ‘স্ট্যাম্প অন সিকেডি’ (STAMP on CKD) নামক একটি কৌশল অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এর মূল ধাপগুলো হলো: স্ক্রিনিং, ট্রায়াজ, ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করা, হৃদরোগের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা। হার্টের রোগীদের নিয়মিতভাবে কিডনির কার্যকারিতা এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের মাত্রা পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রফেসর উইলিয়াম হেরিংটন জানান, কার্ডিওলজিস্ট এবং নেফ্রোলজিস্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। নতুন নির্দেশিকায় আরএএস (RAS) ইনহিবিটরস, এসজিএলটি২ (SGLT2) ইনহিবিটরস এবং স্ট্যাটিন থেরাপির সঠিক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রোগীদের সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ সংস্করণও তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।