যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে, যার পেছনে চীনকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন দেশটির প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক মিত্ররা। সাংবাদিক মলি টাফটের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাধারণ মানুষের এই অনাগ্রহের পেছনে কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্রের শক্ত কোনো প্রমাণ নেই, বরং এটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি সহজ অজুহাত হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে ৭৫ শতাংশ আমেরিকান তাদের এলাকায় ডেটা সেন্টার স্থাপনের বিরোধী, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোর মতো রাজনীতিকরাও ভোটারদের প্রতিকূল মনোভাবের কারণে এখন এই প্রকল্পগুলোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে এর বিপরীতে রিপাবলিকান ও প্রযুক্তি খাতের অনেকে দাবি করছেন, এই জনমতের পেছনে চীনের হাত রয়েছে।
আগস্ট মাসের শেষের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) দাবি করে যে, তারা চীনের সাথে সংশ্লিষ্ট ২০০টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করেছে, যারা ডেটা সেন্টার বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ধরনের দাবিকে সমর্থন করে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন। ওপেনএআই-ও জুন মাসে একই ধরনের কিছু ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দাবির ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। গ্রাফিকা নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, ডেটা সেন্টার বিরোধী অধিকাংশ মনোভাব অভ্যন্তরীণ বা স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার ফল। কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ এখনো মেলেনি।
প্রযুক্তি বিষয়ক সাংবাদিক লুইস মাতসাকিস মনে করেন, ডেটা সেন্টার নিয়ে এই আতঙ্ক মূলত চীনের বিষয় নয়। আমেরিকানরা নিজেদের রাজনৈতিক বা পরিবেশগত সমস্যার দিকে নজর না দিয়ে সবকিছুর জন্য বিদেশিদের বা চীনের মতো কোনো পক্ষকে দায়ী করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।