যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ২০২৭ অর্থবছরের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা আশাবাদী। প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তারা ওয়াল স্ট্রিটের উদ্বেগের বিপরীতে দাঁড়িয়ে জানিয়েছেন, অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির চাহিদা এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ডারের চাপ প্রমাণ করে যে, বড় অংকের বাজেট শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে।
পেন্টাগনের প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ১.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল বাজেট এবং ৩৫০ বিলিয়ন ডলার পুনর্মিলন (reconciliation) তহবিল হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে কংগ্রেসের পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় পুনর্মিলন তহবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই তহবিল অনিশ্চিত হলে গোলাবারুদ সংগ্রহ এবং গোল্ডেন ডোম মিসাইল শিল্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আরটিএক্স (RTX)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস ক্যালিও জানিয়েছেন, বাজেট প্রক্রিয়ার ধরণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কংগ্রেসে দ্বিপক্ষীয় সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, মূল বাজেটে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে কিছু প্রাথমিক অস্ত্র চুক্তি কাঠামোগত পর্যায়ে থাকলেও সেগুলো এখনো কোম্পানির আর্থিক হিসাবে যুক্ত হয়নি।
লোকহিড মার্টিনের মতো কোম্পানিগুলো অবশ্য তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে যে, রাজনৈতিক পরিবেশ, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক হুমকির কারণে বাজেটের অগ্রাধিকার পরিবর্তন হতে পারে।
তবে জেনারেল ডাইনামিক্স, নর্থরপ গ্রুম্যান এবং এলথ্রি হ্যারিসের মতো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মূল কার্যক্রমগুলো বেস বাজেটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পুনর্মিলন তহবিল কমলেও তাদের ওপর বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরেই জরুরি।