যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আইম্যাক্স থিয়েটারের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’র মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাগুলো কয়েক মাস আগেই আইম্যাক্স স্ক্রিনে দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, সাধারণ থিয়েটারের তুলনায় আইম্যাক্স কেন এত বেশি অনন্য এবং দর্শকরা কেন দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে এর জন্য অপেক্ষা করছেন।
সাধারণ থিয়েটারের তুলনায় আইম্যাক্স থিয়েটার আকার ও আকৃতিতে একেবারেই ভিন্ন। প্রচলিত থিয়েটারের পর্দা সাধারণত যে অনুপাতে থাকে, আইম্যাক্স তার চেয়ে অনেক বেশি বড় এবং বর্গাকার আকৃতির। আইম্যাক্সের ডিজিটাল ও ফিল্ম প্রজেকশনগুলোতে ১:৯০:১ অথবা ১:৪৩:১ অনুপাত ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের দৃষ্টিসীমার চেয়েও বড় পর্দা তৈরি করে। এতে দর্শকরা সিনেমার ভেতরেই যেন হারিয়ে যান।
আইম্যাক্স শুধু বড় পর্দায় ছবি প্রদর্শন করে না, বরং সিনেমা নির্মাণ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই তারা নির্মাতাদের সাথে কাজ করে। পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের মতে, আইম্যাক্স ক্যামেরা দিয়ে শুট করলে অনেক বেশি দৃশ্যগত তথ্য পাওয়া যায়। তাই সাধারণ থিয়েটারের চেয়ে আইম্যাক্সে সিনেমাটি অনেক বেশি স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত মনে হয়। এ ছাড়া আইম্যাক্স তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির ক্যামেরা, লেন্স এবং সাউন্ড আর্কিটেকচার ব্যবহার করে সিনেমাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে উপস্থাপন করে।
আইম্যাক্স থিয়েটারের সবচেয়ে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা হলো ৭০ মিলিমিটার (70mm) ফিল্ম ফরম্যাট। এর ফিল্ম রিলগুলো প্রায় ১০ মাইল দীর্ঘ এবং ৫০০ পাউন্ড ওজনের হয়। আইম্যাক্স এই ফিল্মকে লম্বালম্বিভাবে না চালিয়ে অনুভূমিকভাবে চালায় এবং এর ছিদ্র বা পারফোরেশন বাড়িয়ে দেয়, যা সিনেমার রেজোলিউশনকে সাধারণ ৩৫ মিমি প্রজেক্টরের তুলনায় ১০ গুণ পর্যন্ত স্পষ্ট করে তোলে।
বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ১৮০০টি আইম্যাক্স স্ক্রিন থাকলেও, এর মধ্যে মাত্র ৪১টি স্ক্রিনে ৭০ মিলিমিটার ফরম্যাট প্রদর্শনের সুবিধা রয়েছে। আইম্যাক্সের সিইও রিচার্ড গেলফন্ডের মতে, গত ৫০ বছরে নতুন কোনো আইম্যাক্স ফিল্ম প্রজেক্টর তৈরি না হওয়ায় এর যন্ত্রাংশের সংকট রয়েছে। বর্তমানে পুরোনো প্রজেক্টরগুলো মেরামত করেই এই সেবা চালু রাখতে হচ্ছে, যা এই ফরম্যাটটিকে আরও দুর্লভ করে তুলেছে।