যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড মেডিসিনে গবেষকরা বার্ধক্য প্রক্রিয়া নিয়ে এক যুগান্তকারী তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট কোষীয় সুইচের অকার্যকারিতা বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করে। এই গবেষণাটি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
শরীরে টিস্যু-রেসিডেন্ট ম্যাক্রোফেজ নামের এক ধরনের রোগ প্রতিরোধক কোষ থাকে, যা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভেতরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কোষগুলো শরীরের মৃত বা অকেজো কোষ পরিষ্কার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই অকেজো কোষগুলো থেকে ক্ষতিকারক রাসায়নিক নির্গত হয়, যা শরীরের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় এবং বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
গবেষক দলের প্রধান এবং স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্যাথরিন আন্দ্রেসন জানান, ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় তারা ম্যাক্রোফেজ কোষে থাকা ‘ইপি২’ (EP2) নামক একটি রিসেপ্টর ব্লক বা বন্ধ করে দেন। এর ফলে ইঁদুরগুলোর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন—মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, লিভার এবং মাংসপেশি আশ্চর্যজনকভাবে তরুণ ও সতেজ থাকে। এছাড়া বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত চর্বি জমা এবং স্মৃতিশক্তির অবক্ষয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বয়সের সাথে সাথে শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন (PGE2) নামক হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে, যা ইপি২ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে। এটি একপর্যায়ে ম্যাক্রোফেজ কোষের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যখন এই রিসেপ্টরটি বাধাগ্রস্ত করা হয়, তখন ম্যাক্রোফেজ কোষগুলো পুনরায় তাদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজ শুরু করতে পারে।
গবেষকদের মতে, মানুষের লিভারের কোষের ওপর চালানো প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইঁদুরের মতোই একই ধরনের বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা গেছে। যদিও মানুষের জন্য এখনো কোনো ওষুধ প্রস্তুত হয়নি, তবে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যকর আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি নতুন চিকিৎসা কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে।