ঢাকাThursday , 1 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মুরাদপুরে থেমে আছে সেই ১৬ জুলাই, স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বিচারহীনতার বেদনা

Truth Post
August 6, 2026 1:45 am
Link Copied!

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ঘটে যাওয়া সহিংসতায় নিহতদের স্বজনরা আজও সেই মর্মান্তিক স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতি ও প্রিয়জন হারানোর শোক নিয়ে পরিবারগুলোর জন্য সময় যেন ওই দিনটিতেই থমকে আছে। মুরাদপুর, আন্দরকিল্লা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করিডোরগুলো এখনো সেই রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষী হয়ে আছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরুতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি। ১৬ জুলাই মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলির ঘটনায় প্রাণ হারান চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং ফার্নিচারের দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ ফারুক। জুলাই ও আগস্ট মাসজুড়ে চট্টগ্রামে মোট ১৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে আটজনই মারা যান মুরাদপুর এলাকায়।

শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলমের ভাষ্যমতে, তার ছেলের আত্মত্যাগের জন্য গর্ববোধ করলেও শূন্য ঘরের কষ্ট তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে। তিনি শুধু গুলি চালানো ব্যক্তিদের নয়, বরং এই ঘটনার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদেরও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই আক্ষেপ শোনা যায় নিহত শান্তর মা কোহিনুর বেগম ও নিহত ফারুকের স্ত্রী সীমা আক্তারের কণ্ঠে। তারা জানান, বিচার পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন পার হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। তারা পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার আশ্বাস দিলেও পরিবারগুলোর কাছে মূল চাওয়া হলো স্বচ্ছ বিচার ও দায়ীদের শাস্তি। বর্তমানে শহর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে গেলেও শহীদ পরিবারগুলোর কাছে ১৬ জুলাইয়ের সেই বিকেল এখনো অমলিন ও বেদনার প্রতীক হয়ে আছে।