বাংলাদেশের ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার একই স্থানে ও সময়ে তিনটি ভিন্ন সংগঠন সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনকে এই নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার চত্বরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অ্যাম্বুলেন্স উপহার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। একই স্থানে বেলা সাড়ে ১২টায় ছাত্রদল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। ছাত্রদল ওই কর্মসূচিতে শিবিরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং মবতন্ত্রের অভিযোগ তোলার পরিকল্পনা করেছিল।
সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট
এর আগে গত মঙ্গলবার ইনকিলাব মঞ্চের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় অন্তত ৭০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের দাবি, শিবিরের মব করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তাদের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীরা নানা কারণে হতাশ এবং জকসুর একাংশের ওপর ক্ষুব্ধ।