বাংলাদেশের ঢাকায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের চেয়ারপারসন শিরীন পারভিন হক জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে নারীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে থাকলেও পরবর্তীতে তাদের সামাজিক অবস্থানে প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি মনে করেন, এই বাস্তবতা নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
শিরীন পারভিন হক উল্লেখ করেন, বর্তমানে অনেক পুরুষ নিজেদের নারীর অভিভাবক মনে করেন। তারা নারীর পোশাক, চলাফেরা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা নারী অধিকারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কমিশন গঠন ও কাজের ধারা সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারীসহ বিভিন্ন খাতে পাঁচটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তার নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের কমিশন সংবিধান, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে চার শতাধিক সুপারিশ তৈরি করেছে। এই সুপারিশগুলো রাতারাতি বাস্তবায়নযোগ্য না হলেও, নারীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে জনআলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
নারীর অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রথা ও বৈষম্যকে দায়ী করেছেন। এর মধ্যে বাল্যবিবাহ রোধ এবং পারিবারিক আইনে নারীর সমান অধিকারের অভাব অন্যতম প্রধান সমস্যা। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানিকে তিনি ‘অতিমারির’ মতো একটি বাস্তবতা বলে অভিহিত করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় নারী-পুরুষের যে ঐক্য ও স্পিরিট দেখা গিয়েছিল, তা ছিল অসাধারণ। তবে আন্দোলন রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে মোড় নেওয়ার পর নারীরা ধীরে ধীরে দৃশ্যমানতা হারিয়েছে। নারীদের পুনরায় ঘরোয়া ও রক্ষণশীল গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করার প্রবণতা তাকে আশাহত করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, একটি স্থায়ী নারী কমিশন গঠন, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোতে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ‘জিপার সিস্টেম’ চালুর মাধ্যমে নারীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।