ঢাকাThursday , 6 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

নির্বাসিত অভিবাসীদের বাড়ি শনাক্তে ‘বাউন্টি হান্টার’ নিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র


August 6, 2026 10:45 am
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দেশটির কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) নির্বাসিত অভিবাসীদের বিদেশে বাড়ি খুঁজে বের করা এবং তাদের ছবি তোলার জন্য ব্যক্তিগত তদন্তকারীদের নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। মূলত মেক্সিকো, হন্ডুরাস এবং গুয়াতেমালায় অবস্থানরত অভিবাসীদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা বা জরিমানা আদায়ের লক্ষ্যে এই বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই পরিকল্পনায় ‘ট্রেসিং অ্যান্ড পেমেন্ট রিকভারি সার্ভিসেস’ প্রোগ্রামের আওতায় আগামী দুই বছরে ৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দায়িত্ব হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্তমান ঠিকানা নিশ্চিত করা। এর প্রমাণ হিসেবে তারা ওই ব্যক্তির বাড়ির ছবি, ইউটিলিটি বিলের কপি, কর্মসংস্থানের রেকর্ড বা মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া তদন্তকারীদের সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা ও লিফলেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যেখানে তাদের বকেয়া জরিমানা ও ফি-র তালিকা উল্লেখ থাকবে।

জরিমানা আদায়ের কৌশল

ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস পর্যন্ত অভিবাসীদের ওপর প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মূলত ১৯৯৬ সালের অভিবাসন আইনের একটি অস্পষ্ট ধারা ব্যবহার করে এই জরিমানা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই আইনটি পুনরায় কার্যকর করা হয়। মার্কিন আইন অনুযায়ী, দেশটিতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ওপর প্রতিদিন ৯৯৮ ডলার পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ ১.৮ মিলিয়ন ডলারেও পৌঁছেছে।

আইনি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই পদক্ষেপটি অভিবাসীদের আতঙ্কিত করার একটি উপায় মাত্র। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল-এর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিমানা নোটিশ পাওয়ার পর অনেক অভিবাসীর কর ফেরত জব্দ করা হয়েছে, বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চলমান বিতর্ক

আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, যারা ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন তাদের কাছ থেকে বিদেশে গিয়ে জরিমানা আদায়ের যৌক্তিকতা কী। লিগ্যাল এইড সোসাইটির অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী হাসান শফিকুল্লাহর মতে, যারা দেশত্যাগ করেছেন তাদের কাছে অর্থ নেই এবং তাদের ওপর এই ধরণের সংগৃহীত পদ্ধতি প্রয়োগ করা অসম্ভব।

মার্কিন সিনেটর ডিক ডারবিন এবং অ্যালেক্স প্যাডিলা দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এ বিষয়ে জবাব চেয়েছেন। সিনেটর ডারবিন এই উদ্যোগকে সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। সিবিপি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং বিষয়টি হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ওপর ছেড়ে দিয়েছে।