শ্রীলঙ্কার হাবরানা জেলার হুরু লু ইকো পার্কে হাতি ও মানুষের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সহাবস্থানের চিত্র উঠে এসেছে সাংবাদিক দিয়া হাদিদ ও সুসিথা ফার্নান্দোর প্রতিবেদনে। কৃষিজমি সম্প্রসারণের কারণে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় দ্বীপরাষ্ট্রটিতে হাতি এবং মানুষ উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্থানীয় জনজীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকদের দুর্দশা ও সংঘাত
শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলে ধান চাষের মৌসুমে কৃষকরা জানান, বুনো হাতি তাদের ফসল নষ্ট করছে। ফসল বাঁচাতে কৃষকরা আতশবাজি ও জ্বলন্ত মশাল ব্যবহার করছেন। এই পরিস্থিতিতে হাতি ও মানুষের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় পক্ষেরই শত শত প্রাণহানি ঘটেছে। কৃষকরা তাদের জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
হাতির আবাসস্থল ও সংকট
শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি হাতি রয়েছে, যারা দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুক্তভাবে বিচরণ করে। তবে মানুষের বসতি এবং নিবিড় কৃষিকাজের প্রসারের ফলে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে আসছে। হুরু লু ইকো পার্কে হাতির নিরাপদ বিচরণের সুযোগ থাকলেও সামগ্রিকভাবে এই দ্বীপে হাতি ও মানুষের সংঘর্ষ দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।
হাতি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি
শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতিতে হাতি অত্যন্ত শ্রদ্ধার একটি প্রাণী। এই সংঘর্ষের ফলে একদিকে যেমন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি হাতির অস্তিত্বও সংকটে পড়ছে। ইকো পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে হাতির অবাধ বিচরণ এই প্রাণীর প্রতি মানুষের সেই চিরাচরিত শ্রদ্ধাবোধকেই পুনরায় সামনে নিয়ে আসে, যা এই সংঘাতের মানবিক ও পরিবেশগত দিকটি অনুধাবন করতে সাহায্য করে।