চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ‘জাতিগত ঐক্য’ আইনের প্রভাবে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে লড়াই করছেন তিব্বতিরা। এই আইনের আওতায় দেশজুড়ে জাতীয় ঐক্য এবং দেশপ্রেমকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা তিব্বতিসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন সমালোচকরা। বেইজিংয়ের ভাষ্যমতে, এই আইন জাতিগত বিভেদ দূর করতে এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
নতুন এই আইনে যেকোনো কার্যক্রম যা জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী বা বিভেদ সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচিত হবে, তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্কুল, পরিবার এবং সরকারি সংস্থায় এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চীনা বা ম্যান্ডারিন ভাষার চর্চা ও জাতীয় আদর্শ লালন করতে হবে। ৭৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নার্স কালসাং লামো জানান, তিনি তিব্বতি ভাষায় কথা বললেও নতুন নিয়মের কারণে এখন চীনা ভাষা ও লিখন পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এর মধ্যেও অনেকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তিব্বতি ভাষা, কারুশিল্প এবং বৌদ্ধ রীতির মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক চীন ও তিব্বত বিষয়ক ইতিহাসবিদ বেনো উইনারের মতে, এই নতুন আইন মূলত গত কয়েক বছর ধরে চলমান নীতিকেই বিধিবদ্ধ রূপ দিয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও ভাষাগত অধিকার আরও সংকুচিত করা হচ্ছে। তিব্বতের রাজধানী লাসা এবং শানানসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন চীনা জাতীয় পতাকা এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতিকৃতি ব্যাপকভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
তিব্বতের পবিত্রতম স্থান জোকসাং মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে বর্তমানে দালাই লামার কোনো উল্লেখ নেই। বেইজিং দালাই লামাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করে এবং তার উত্তরসূরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদনের ওপর জোর দেয়। অপরদিকে, তিব্বতিরা তাদের এই আধ্যাত্মিক নেতাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। সরকারি জাদুঘরে তিব্বতের ইতিহাসের সাথে চীনা রাজবংশের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা বেইজিংয়ের অখণ্ড চীনের ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্থানীয় তিব্বতিদের অনেকে মনে করেন, তাদের মাতৃভাষা রক্ষা করা জরুরি এবং এই নতুন আইনের ফলে তারা ব্যক্তিগতভাবে নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে সংকীর্ণতার মুখে পড়ছেন।