ঢাকাThursday , 6 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

স্মার্টফোন দিয়েই যাচাই করা যাবে পণ্যের আসল-নকল


August 6, 2026 11:45 am
Link Copied!

আন্তর্জাতিক জার্নাল অব ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড প্রোডাক্ট টেকনোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় গবেষকদের একটি দল নকল পণ্য শনাক্ত করার নতুন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জালিয়াতি রোধে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে থাকা নকল পণ্য শনাক্ত করার ব্যবস্থাগুলো বেশ ব্যয়বহুল এবং এর জন্য বিশেষ স্ক্যানার বা হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন হয়। নতুন এই প্রযুক্তিতে এমন এক ধরনের প্রিন্টিং সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে যা থেকে পাওয়া লেবেল স্মার্টফোনের মাধ্যমেই যাচাই করা সম্ভব। এটি সাধারণ প্রিন্টিং পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি টেকসই এবং উৎপাদন করাও সহজ।

প্রযুক্তিটি যেভাবে কাজ করে

নতুন এই লেবেল তৈরিতে তিনটি প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। গবেষকরা তাপ ও আলোর প্রতি সংবেদনশীল মাইক্রোক্যাপসুল এবং হাই-স্পিড প্রিন্টিং উপযোগী ইউভি কালি ব্যবহার করেছেন। এর সাথে একটি স্মার্টফোন-ভিত্তিক ডিটেকশন সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। এই মাইক্রোক্যাপসুলগুলোতে থাকা উপাদান পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে বিক্রিয়া করে এমন এক অপটিক্যাল সংকেত তৈরি করে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে নকল করা প্রায় অসম্ভব।

গবেষকদের তথ্যমতে, ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহারের ফলে এই লেবেলগুলো তাপ এবং আর্দ্রতায় দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকতে পারে। এটি স্ক্রিন প্রিন্টিং এবং ইঙ্কজেট প্রিন্টিং—উভয় পদ্ধতিতেই ব্যবহারযোগ্য। পরীক্ষায় দেখা গেছে, বারবার ঠান্ডা পরিবেশে রাখার পরও লেবেলগুলো ৮৩ শতাংশেরও বেশি কার্যকর ছিল।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমানে ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স, খাদ্যদ্রব্য এবং বিলাসদ্রব্যের বাজারে নকল পণ্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিদ্যমান হলোগ্রাম বা কিউআর কোড প্রযুক্তিগুলো বেশ ব্যয়বহুল। স্মার্টফোন-ভিত্তিক এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা গেলে সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতারাও সহজেই পণ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।

পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এই প্রযুক্তিটি ৯৭.৫ শতাংশ নির্ভুলভাবে আসল এবং নকল পণ্যের পার্থক্য শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এই প্রিন্টিং প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান উৎপাদন লাইনের সাথে সমন্বয় করতে হবে। এটি সফলভাবে করা গেলে পকেটে থাকা স্মার্টফোনই হয়ে উঠবে নকল পণ্য শনাক্তের সবচেয়ে বড় মাধ্যম।