মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত ফিফার জরুরি সভায় নিজের বিতর্কিত পরিকল্পনার জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে সভায় ফিফার শীর্ষ নির্বাহীদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় সভাপতি হিসেবে নিজের পদ ধরে রেখেছেন ইনফান্তিনো।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা এক বিবৃতিতে জানান, ২১১টি সদস্য দেশের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর ওপর তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
বিতর্কিত এই পরিকল্পনাটি মূলত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উয়েফা, কনক্যাক্যাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের মতো প্রভাবশালী সংস্থাগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রোম সদস্য দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিতে নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলেও ইনফান্তিনোর ওপর সমালোচনা কমছে না। পর্তুগালের কিংবদন্তি লুইস ফিগোসহ বেশ কয়েকজন ফুটবল ব্যক্তিত্ব তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও জানিয়েছেন যে, ইনফান্তিনোর ওপর তাঁর আস্থা নেই।
আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সব বিতর্ক সত্ত্বেও ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে লড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, উয়েফাসহ বেশ কিছু ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে, যা ফিফার অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।