যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত সোশ্যালিজম ২০২৬ সম্মেলনে লেখক ডা’শাউন এল. হ্যারিসন ডায়েট ইন্ডাস্ট্রি এবং আধুনিক স্বাস্থ্য মানদণ্ডকে ‘বডি ফ্যাসিজম’ বা শারীরিক ফ্যাসিবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সম্মেলনে দুই শতাধিক উপস্থিতির সামনে হ্যারিসন দাবি করেন যে, কৃষ্ণাঙ্গদের মেদবহুল শরীর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শাসনব্যবস্থার মূল কাঠামোর সাথে যুক্ত।
সম্মেলনের ‘হেলথ ফ্যাসিজম’ শীর্ষক একটি সেশনে হ্যারিসন বলেন, কৃষ্ণাঙ্গদের মেদবহুল শরীরের ওপর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই একটি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। তার মতে, জনগণের ওপর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকেই বিএমআই (BMI) সূচক এবং স্থূলতা বিরোধী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছে।
ডায়েট সংস্কৃতি কীভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হ্যারিসন বলেন, খাদ্যকে নৈতিকতার সাথে যুক্ত করা এবং খাবার উপভোগকে বিপজ্জনক হিসেবে উপস্থাপন করা এই শিল্পের কৌশল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওজন কমানোর ওষুধ বা জিএলপি-১ (GLP-1) গোত্রীয় ওষুধের প্রচলনও জাতিগত নিয়ন্ত্রণের একটি অংশ। তার দাবি, সরকার যখন নির্দিষ্ট কোনো শরীরকে রক্ষা করতে চায় বা অন্যকে মুছে ফেলতে চায়, সেটিই মূলত শারীরিক ফ্যাসিবাদ।
অন্যদিকে, সাইকোথেরাপিস্ট ও লেখক জোনাথন আলপার্ট এই মন্তব্যের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও স্থূলতা নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, তবে একে ‘বডি ফ্যাসিজম’ হিসেবে চিহ্নিত করা চরমপন্থি মতাদর্শের বহিঃপ্রকাশ। আলপার্টের মতে, একজন চিকিৎসকের পরামর্শকে বর্ণবাদ বা নিপীড়ন হিসেবে দেখা ভুল। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের চিন্তাধারা মানুষকে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং প্রতিটি বিষয়কে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখার প্রবণতা তৈরি করে।