যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মহাবিশ্বের দুটি প্রধান রহস্য ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটার নিয়ে নতুন এই সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার একে অপরের সাথে একটি ‘ডার্ক ডাইমেনশন’ বা অন্ধকার মাত্রার মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। এই ধারণা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং এদের মধ্যকার আন্তঃক্রিয়া বুঝতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত মহাবিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ডার্ক এনার্জি এবং ২৫ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার দ্বারা গঠিত বলে ধারণা করা হয়। এতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এদের দুটি আলাদা সত্তা হিসেবেই বিবেচনা করে আসছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কোপিক ইনস্ট্রুমেন্ট (DESI) দলের গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডার্ক এনার্জির শক্তি সময়ের সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনই গবেষকদের বাধ্য করেছে নতুনভাবে ভাবতে যে, ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার আসলে শারীরিকভাবে একে অপরের সাথে জড়িত কি না।
পটভূমি
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের কণা পদার্থবিজ্ঞানী টিম টাইট উল্লেখ করেছেন যে, এই দুটি উপাদান একে অপরের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে এবং সম্ভবত এগুলো একই অন্ধকার মহাবিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি অফ মন্টপেলিয়ারের কসমোলজিস্ট এলসা টেক্সেইরা মনে করেন, অতীতে ডার্ক ম্যাটার তার শক্তির একটি অংশ ডার্ক এনার্জিকে প্রদান করে থাকতে পারে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের এই আন্তঃসম্পর্ক ‘হাবল টেনশন’ নামক মহাজাগতিক সমস্যার সমাধান দিতে পারে। হাবল টেনশন হলো মহাবিশ্বের প্রসারণের হারের পরিমাপে দেখা দেওয়া ৯ শতাংশের অমিল। গবেষকদের নতুন মডেলে দেখা যাচ্ছে, ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটার যদি মিথস্ক্রিয়া করে, তবে এই অমিলটি স্বাভাবিক একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী কামরান ভাফা এবং তার সহকর্মীরা স্ট্রিং থিওরির আলোকে প্রস্তাব করেছেন যে, ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি একটি ‘ডার্ক ডাইমেনশন’ বা অন্ধকার মাত্রা শেয়ার করে। তাদের মতে, মহাকর্ষীয় বলের কণা ‘গ্র্যাভিটন’ এই মাত্রায় লিক হতে পারে, যা ডার্ক ম্যাটারের ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে গবেষকরা এই তত্ত্বের সপক্ষে জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রমাণের অনুসন্ধান চালাচ্ছেন, যা মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন বুঝতে ভবিষ্যতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।