বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরে এক ট্রাভেল এজেন্সির মালিককে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, এই ঘটনায় জড়িত চক্রের চার সদস্যকে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই অপরাধমূলক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা ভুক্তভোগী ও জননিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মিরপুর মডেল থানার আহম্মেদনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সোহানা (৩৫), সুমন (৪০) ও ছাব্বির আহম্মেদ (৩৫)। এ ছাড়া চক্রের সঙ্গে জড়িত এক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওমরাহ পালনের জন্য পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কথা বলে সোহানা ওই ট্রাভেল এজেন্সির মালিককে গত ৩১ আগস্ট আহম্মেদনগরের একটি বাসায় ডেকে নেন। বাসায় পৌঁছালে সোহানা কৌশলে তাকে শয়নকক্ষে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় জড়িয়ে ধরেন। ঠিক সেই মুহূর্তে চক্রের অন্য সদস্যরা ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে।
এসব আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
গ্রেফতারের সময় সোহানার কাছ থেকে নগদ ২১ হাজার ৫০০ টাকা ও ব্যাংকিং স্লিপ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ছাব্বির আহম্মেদ ও ওই শিশুর কাছ থেকে দুটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন ও একটি আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।