বাংলাদেশের সাভারে অবস্থিত একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ছয় মাস ধরে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটির বাবা ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে শিশুটিকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। ভর্তির কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই মাদরাসার কয়েকজন সহপাঠী তাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এই নির্যাতন চলে এবং একাধিকবার তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী শিশুটি নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়টি মাদরাসার শিক্ষকদের কাছে জানালেও প্রতিকার মেলার পরিবর্তে সে আরও নিগ্রহের শিকার হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১২ আগস্ট শিশুটি তার মাকে পুরো বিষয়টি জানালে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট শিশুটির বাবা মাদরাসার পরিচালক জিয়া ইবনে কাসেমকে বিষয়টি অবহিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসা পরিচালক এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই সামরুল হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্নার আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় মক্তব বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা জাবের হোসেন দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং একই মামলার অপর আসামি শিক্ষক কামরুল ইসলামকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বয়স কম হওয়ায় অপর তিন আসামিকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের দাবি, মামলা করার পর থেকে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে শিশুটির বাবা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। আদালত আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।