যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে টানা ছয় সপ্তাহের তীব্র খরা ও দাবদাহের কারণে সবজি চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, অন্যদিকে আঙুর চাষিরা এই উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া থেকে লাভবান হচ্ছেন। উইল্টশায়ারের সবজি চাষি ফিল কলিন্স এবং সমারসেটের আঙুর বাগান মালিক স্যান্ডি লাক জানিয়েছেন, এই অস্বাভাবিক আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবজি চাষে বিপর্যয়
উইল্টশায়ারের ডেরভাইজেস এলাকার সবজি চাষি ফিল কলিন্স জানান, গত ৩০ বছরে প্রথমবারের মতো তাকে ব্যাংক ঋণের বোঝা টানতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির ফলে তার সাড়ে ছয় হাজার ফুলকপি নষ্ট হয়ে গেছে। ড্রট-রেজিস্ট্যান্ট বা খরা সহনশীল হিসেবে পরিচিত মারফোনা জাতের আলু গাছও এই তীব্র গরমে শুকিয়ে গেছে। তিনি জানান, সেচ দিয়ে ফসল রক্ষা করতে গেলে উৎপাদন খরচ এত বেড়ে যাবে যে বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হবে। বর্তমানে তার উৎপাদিত সবজির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ভাগে নেমে এসেছে।
আঙুর চাষে সুদিন
ব্রিস্টলের দক্ষিণে অবস্থিত অ্যাল্ডউইক এস্টেটের আঙুর বাগানে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। বাগান মালিক স্যান্ডি লাক জানান, দীর্ঘ ও উষ্ণ দিনগুলো আঙুর পাকার জন্য বেশ সহায়ক এবং এটি রোগবালাই নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সেখানে এখন ফ্রান্সের মতো উষ্ণ আবহাওয়ার সুফল পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে উচ্চমানের আঙুর ও বিভিন্ন জাতের ওয়াইন উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। গত বছর ইংল্যান্ডে ওয়াইন উৎপাদন পূর্বের চেয়ে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
মেট অফিসের জলবায়ু বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাজ্যে ভবিষ্যতে আরও বেশি গরম ও শুষ্ক গ্রীষ্মকাল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নতুন জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষকদের ফসল নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবতে হচ্ছে। ফিল কলিন্স এখন ভাবছেন আগামীতে কোন ধরনের ফসল চাষ করা যায়, যা এই উত্তপ্ত পরিবেশে টিকে থাকতে পারবে।