যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির সাউথ বুশউইক রিফর্মড চার্চে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেফতার জন জোন্স আরও ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কৌঁসুলিরা। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ১৯ জুন ১৭৩ বছরের পুরনো ওই ঐতিহাসিক গির্জায় আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জোন্সের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি নোটবুক বা ডায়েরিতে সহিংসতার নানা লক্ষ্যবস্তু ও পরিকল্পনার ছক ছিল। সেখানে ‘তাদের হত্যা করো’, ‘তাকে ধর্ষণ করো’, ‘তাদের আঘাত করো’ এবং ‘তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে’—এই ধরনের ভয়াবহ শব্দগুচ্ছ লেখা ছিল। এসব বার্তার পাশে ট্যালি চিহ্ন ব্যবহার করে হিসাব রাখা হয়েছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্রুকলিনের আরেকটি গির্জা পোড়ানোর চেষ্টাও করেছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ঘটনার দিন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি গির্জায় প্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর রাস্তা পার হয়ে একটি লাইটার কেনেন। এরপর গির্জার একপাশে ফিরে গিয়ে তিনি আগুন ধরিয়ে দেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং গির্জাটির মিনারসহ অভ্যন্তরীণ অংশ ধ্বংস করে দেয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দিনের আলোয় এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্রুকলিনের অগণিত মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কমিশনার লিলিয়ান বোনসিনোর জানান, এই হামলায় ছয়জন দমকল কর্মী আহত হয়েছেন এবং বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন চিরতরে হারিয়ে গেছে।
জোন্সকে গত বুধবার ম্যানহাটনের একটি সিভিএস দোকান থেকে চুরির চেষ্টার সময় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রাখা হয়েছে এবং শুক্রবার তার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।