যুক্তরাজ্যের কভেন্ট্রি ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টারে (এমটিসি) দেওয়া বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জন হিলি দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে নতুন কৌশলের কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সরকারি শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন ধারা তৈরির পরিকল্পনা করছেন।
কভেন্ট্রিতে অবস্থিত জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের (জেএলআর) অফিসের কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরের মধ্যেই তিনি এই ভাষণ দেন। অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেছেন যে বর্তমানে ঋণের ব্যয় অনেক বেশি, যা বাজেটের হিসাব-নিকাশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
আসন্ন ২৮ অক্টোবরের বাজেটকে সামনে রেখে কর বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জন হিলি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বাজেটের আগে কোনো অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন না। তবে অর্থনীতিবিদ লর্ড ওনিলের পরামর্শ অনুযায়ী পেনশন সংক্রান্ত ট্রিপল লক ব্যবস্থা বাতিলের গুঞ্জন নিয়ে তিনি জানান, সরকার কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, ব্রিটিশ বিজনেস ব্যাংক ও ন্যাশনাল ওয়েলথ ফান্ডের মতো সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। বিশেষ করে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
তবে এআই প্রযুক্তির প্রভাব ও কর্মসংস্থান নিয়ে অর্থমন্ত্রী সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে প্রবৃদ্ধিই হবে প্রধান নিয়ামক। সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে তিনি প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।