চীনের বেইজিংয়ে শাওমি তাদের নতুন স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৮ ফোল্ড’ বাজারে ছেড়েছে, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মোবাইল গেমিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক গ্রাফিক্স এক্সিলারেটর প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর্ম-এর তৈরি ‘মালি জি২-আল্ট্রা এনএক্স’ গ্রাফিক্স প্রসেসর ও কাস্টম জিরিং ও৩ চিপসেট সম্বলিত এই ফোনটি মোবাইল গেমিংয়ের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন আর্ম-এর এজ এআই বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস বার্গি।
কেন এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ
আর্ম-এর এই নতুন প্রযুক্তি এনভিডিয়ার ডিএলএসএস প্রযুক্তির আদলে তৈরি, যা কোনো বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ ছাড়াই গেমিংয়ের মান ও রেজোলিউশন বাড়াতে সক্ষম। ক্রিস বার্গি জানান, এর মাধ্যমে মোবাইল গেমে এআই আপস্কেলিং, ফ্রেম জেনারেশন এবং রে রিকনস্ট্রাকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ফলে গেমে দেখা দেওয়া গ্রাফিক্সের অমসৃণ প্রান্তগুলো দূর হবে এবং গেমের ফ্রেম রেট চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে।
ব্যাটারি ও পারফরম্যান্স
সাধারণত উন্নত গ্রাফিক্সের গেম খেলার সময় ফোনের ব্যাটারি দ্রুত ফুরিয়ে যায় এবং ফোন গরম হয়ে ওঠে। তবে নতুন এই গ্রাফিক্স প্রসেসর অত্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। ক্রিস বার্গির ভাষ্যমতে, এই চিপসেট ব্যবহার করে ফোনের ব্যাটারি খরচ কমিয়ে দীর্ঘ সময় উচ্চমানের গেমিং উপভোগ করা সম্ভব। শাওমির নতুন ট্যাব ‘প্যাড ৯ প্রো ম্যাক্স’-এ এই একই চিপসেট ব্যবহার করে ৩.২কে রেজোলিউশনে ১২০ এফপিএস গতিতে গেম খেলা যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই প্রযুক্তি কেবল শাওমির ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আগামী বছর থেকে বিভিন্ন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং ক্রোমবুকে এই উন্নত গ্রাফিক্স প্রযুক্তি যুক্ত হবে। বিশেষ করে গুগলবুকসহ অন্যান্য ডিভাইসেও এটি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্ম কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ‘হোয়্যার উইন্ডস মিট’, ‘ইনফিনিটি নিকি’ এবং ‘অ্যারেনা ব্রেকআউট: ইনফিনিট’-এর মতো জনপ্রিয় গেমগুলো এই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে শুরু করেছে।