বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বাসিন্দারা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গত দুই মাস ধরে তীব্র পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পানির বিল নিলেও দীর্ঘ সময় ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এতে গোসল ও রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।
তারাবো একটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে লাখো শ্রমিক ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ১০টি পাম্পের মাধ্যমে যাত্রামুড়া, মোগরাকুল, মৈকুলি, দিঘীবরাবো, মাসাবো ও খাদুনসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ করা হতো। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের অজুহাতে গত দুই মাস ধরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই পরিষেবা কার্যত বন্ধ রেখেছে। বাধ্য হয়ে নিম্নআয়ের মানুষ ও শ্রমিকরা দূর থেকে পানি সংগ্রহ করছেন অথবা চড়া দামে পানি কিনতে হচ্ছে। অনেকে পুকুরের দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হলেও কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না। বারবার পৌরসভার দ্বারে গিয়েও কোনো সমাধান মিলছে না। ভুক্তভোগীদের একজন জানান, সাত দিন ধরে খাওয়ার পানি ও গোসলের পানির অভাব চলছে, যা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লোডশেডিংয়ের কারণে পানি উত্তোলন পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে তারাবো পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণেই পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ডিজিএম নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে, তবে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পৌর প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জয় জানান, বিদ্যুতের স্বল্পতায় সব পাম্প একসঙ্গে চালানো যাচ্ছে না, তবে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করছেন।