বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বনানীতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের হয়ে মশাল মিছিল ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতজনকে আদালতে হাজির করা হলে, তিনজনকে কারাগারে এবং চারজনকে শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৭ আগস্ট) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তুষার আহমেদ।
কারাগারে পাঠানো তিন প্রাপ্তবয়স্ক আসামি হলেন মো. আরিফ, মো. শাকিল আহমেদ ও আশিক আহমেদ মোস্তফা। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আমিরুল, ফয়সাল, রাকিব ও আরিফুল ইসলামকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের প্রেক্ষাপট
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম তালুকদার আসামিদের আদালতে হাজির করে জেলহাজতে রাখার আবেদন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা ও অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে মিছিল আয়োজনের কথা স্বীকার করেছেন। আসামিরা জামিন পেলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের আত্মগোপনে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে বনানী থানার ডলফিন ভাস্কর্য ও আর্মি স্টেডিয়ামের বিপরীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি দল মশাল মিছিল ও নাশকতার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাকিরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে ৭০টি মশাল, একটি ব্যানার এবং ৭৭টি ফেস মাস্ক জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় বনানী থানার উপ-পরিদর্শক সিদ্দিক হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।