যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট বেলভোয়ারে দেশটির সেনাবাহিনী তাদের নতুন জৈব প্রতিরক্ষা কৌশল ঘোষণা করেছে। এই কৌশলের লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করা, যারা যেকোনো ‘জৈবিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে’ পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে লড়াই করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিউক্লিয়ার অ্যান্ড কাউন্টারিং ওয়েপনস অফ মাস ডিস্ট্রাকশন এজেন্সির (ইউএসএএনসিএ) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর জৈব প্রতিরক্ষা সমন্বয়কারী লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেভ কিংয়েরি জানান, কোভিড-১৯ মহামারির মতো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট রোগ, অসাবধানতাবশত প্যাথোজেন ছড়িয়ে পড়া কিংবা শত্রুপক্ষের তৈরি করা জৈব হুমকি মোকাবিলার জন্যই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো বৈশ্বিক মহামারি বা স্বাস্থ্যগত সংকটের কারণে যেন বাহিনীর যুদ্ধ করার সক্ষমতা এবং জয়লাভের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য।
পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য
২০৩৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য এই কৌশলে পাঁচটি প্রধান কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক পর্যায়ে বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তৈরি করা, জৈব সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া এবং তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংহত করা। এছাড়া জৈব হুমকি মোকাবিলায় আধুনিক সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সিন্থেটিক বায়োলজি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
কেন এই কৌশল গুরুত্বপূর্ণ
কর্মকর্তারা জানান, কোভিড-১৯ মহামারি থেকে শিক্ষা এবং বর্তমানে নিখুঁত চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় এই উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। ইউএসএএনসিএ-এর কর্মকর্তা অ্যালিসন তামাসি জানান, নতুন এই কৌশলে শুধু চিকিৎসা বিভাগ নয়, বরং সেনাবাহিনীর সব বিভাগকে জৈব হুমকি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ
সেনাবাহিনীর মেডিকেল কমান্ডের কর্নেল ডেনিস রুফোলো জানান, বর্তমানে পোর্টেবল বা ভ্রাম্যমাণ জিন সিকোয়েন্সিং ডিভাইসের মাধ্যমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা প্রাণীর দেহাবশেষ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত বিপদ শনাক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করেছে সেনাবাহিনী।