বাংলাদেশের ঢাকার রমনা মডেল থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী থেকে মেহেদী হাসান মাহিন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভুয়া ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী ও তার চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গ্রামীণ লোন’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটাল ঋণের বিজ্ঞাপন দিত। যারা ঋণ নিতে আগ্রহী হতেন, তাদের নির্দিষ্ট একটি ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হতো। এরপর ঋণের অনুমোদনের শর্ত হিসেবে কাঙ্ক্ষিত অর্থের ১০ শতাংশ টাকা জামানত হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দিতে বাধ্য করা হতো। পাশাপাশি প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি সংগ্রহ করে রাখত।
জামানতের টাকা পাওয়ার পর চক্রটি ভুক্তভোগীদের জন্য একটি ভুয়া ড্যাশবোর্ড তৈরি করত, যেখানে ঋণ ও জামানতের অর্থ ভার্চুয়ালি প্রদর্শন করা হতো। তবে বাস্তবে ওই টাকা উত্তোলনের কোনো সুযোগ ছিল না। প্রতারণার এই কাজে চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত অবৈধ সিম কার্ড ব্যবহার করত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ৬১টি অবৈধ সিম কার্ড জব্দ করা হয়। তার ডিভাইসে ‘গ্রামীণ লোন’ পেজ ও ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড সক্রিয় অবস্থায় পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পর মেহেদীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।