যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে প্রকাশিত নতুন এক মহাকাশ কৌশলে ২০২৭ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রতিরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০.৬ বিলিয়ন ডলার বা ৭.৮ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, মহাকাশ বিষয়ক সচেতনতা, ইন-অরবিট সার্ভিসিং, অ্যাসেম্বলি এবং ম্যানুফ্যাকচারিং (আইএসএএম) এবং নিজস্ব উপগ্রহ উৎক্ষেপণ সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই খাতগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন এই কৌশলে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে (এমওডি) মহাকাশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশে যুক্তরাজ্যের অবাধ কার্যক্রম নিশ্চিত করা, মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং প্রতিপক্ষের যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ৮৮০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে যৌথভাবে উন্নত রাডার সিস্টেম তৈরির প্রকল্পও রয়েছে। এছাড়া মহাকাশভিত্তিক নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
মহাকাশ কৌশলের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে বেসামরিক সংস্থাগুলোর সমন্বয় ঘটানো হবে। বিশেষ করে, জিপিএস বা অন্যান্য গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নিজস্ব পজিশনিং, নেভিগেশন ও টাইমিং (পিএনটি) পরিকাঠামো তৈরির ওপর কাজ করছে যুক্তরাজ্য।