সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংকট নিরসনে কোনো সুরাহা না মেলায় রপ্তানি আদেশ অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্পমালিকরা। এদিকে, উৎপাদন কমে যাওয়ার অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পুরো শিল্পাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে শিল্পাঞ্চলটিতে গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়েছে। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য ১০-১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও মিলছে মাত্র ৫-৮ পিএসআই। ফলে বয়লার, ডাইং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং সেকশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কারখানায় উৎপাদন আংশিক চলছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়েছে শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ওপর। গত ৫ আগস্ট আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যবসায়িক মন্দা ও কার্যাদেশের অভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে অনেক মালিক অন্যায়ভাবে কর্মী ছাঁটাই করছেন।
বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানাকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে শিপমেন্টের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করতে হচ্ছে। এটি দেশের রপ্তানি খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে শিল্পাঞ্চলটিতে ছয় শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি আমদানিতে ঘাটতির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।