বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৬১ মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে তার বাবা রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছরেও মামলার অভিযোগপত্র জমা না দেওয়া বিচারব্যবস্থার দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ। শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, একটি সভ্য সমাজে বিচারের বাণী এভাবে নীরবে কাঁদতে পারে না।
ত্বকী হত্যার পর থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এই কর্মসূচি পালন করে আসছে। রফিউর রাব্বি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় এই বিচার আটকে রেখেছিলেন। সরকার পরিবর্তনের দুই বছর পরও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি এবং বিচারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে এবং অচিরেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অভিযোগপত্র আজও আদালতে পেশ করা হয়নি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বক্তারা
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হালিম আজাদ, মাহবুবুর রহমান, রথীন চক্রবর্তী, আওলাদ হোসেন, আবু নাইম খান, জাহিদুল হক, ভবানী শংকর রায়, ধীমান সাহা ও অঞ্জন দাস।
বক্তারা ত্বকী, সাগর-রুনি, তনুসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান। রফিউর রাব্বি বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।