সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা তাদের সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান বিতর্ক ও তাকে পদচ্যুত করার প্রচেষ্টাকে একটি ‘সুপরিকল্পিত ও চলমান অপচেষ্টা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফিফার মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইনফান্তিনো তার বিরুদ্ধে আনা ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন এবং এ ধরনের দাবিকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। বৈশ্বিক ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপপ্রয়াস থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ফিফা কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি ডেইলি টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন এক সম্পর্কের জেরে ইনফান্তিনোকে একটি বিচ্ছেদ বাবদ অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। তবে ফিফা এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, অনুমান ও ইঙ্গিতকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা অনৈতিক।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং বিভিন্ন ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে তার বাতিল করা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রস্তাবের কারণে। এই প্রস্তাবের আওতায় বাণিজ্যিক ও টিকেটিং স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের কথা ছিল, যার ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীকে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিস ক্লাভনেস ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
যদিও ইউরোপ থেকে প্রবল বিরোধিতা আসছে, তবে মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশন এবং দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ভোটে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাকে সরানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকে তারা প্রত্যাখ্যান করবে। আফ্রিকা মহাদেশের ৫৪টি দেশও ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ফিফার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইনফান্তিনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত এবং তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, পরিবর্তন বা মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু তা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেয় না। ফিফা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বৈধ যাচাই-বাছাইকে তারা স্বাগত জানায়, তবে অসত্য তথ্য বা বিকৃত প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা সহ্য করা হবে না।