বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ায় ত্রাণের আশায় রোহিঙ্গা হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ায় প্রায় এক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা বর্তমানে তাদের নাগরিক পরিচয় নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের সময় অনেক স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিক রেশন ও মানবিক সহায়তা পাওয়ার জন্য নিজেদের পরিচয় গোপন করে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। সরকারি তথ্যভান্ডারে এখন রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সমন্বয় করায় এই দ্বৈত পরিচয় শনাক্ত হচ্ছে, যা তাদের জন্য প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সে সময় জীবিকার সংকটে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত আজ তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, অনেক বাংলাদেশি নাগরিক যখন পাসপোর্ট করতে যাচ্ছেন, তখন আঙুলের ছাপের সাথে রোহিঙ্গা ডাটাবেজের মিল পাওয়ায় তাদের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। উখিয়া ও টেকনাফের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা কিশোর বয়সে পরিবারের সদস্যদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে নিবন্ধিত হয়েছিলেন, কিন্তু এখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজের দেশের পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালীসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ পরিবার এই পরিস্থিতির শিকার। অনেকে এখন রোহিঙ্গা ডাটাবেজ থেকে নিজেদের নাম মুছে ফেলার জন্য জেলা প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের নাম প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সাথে মিলিয়ে দেখার কার্যক্রম জোরদার করেছে। কম্পিউটার কাউন্সিলের তৈরি করা নতুন সার্ভারে তথ্য স্থানান্তরের ফলে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে খুব সহজেই দ্বৈত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয়। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ডাটাবেজ থেকে নাম বাদ দেওয়া একটি গভীর ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০১৭ সালের জরুরি পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়োর কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা নিবন্ধিত হয়ে থাকতে পারেন। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ও ইউএনএইচসিআরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। এখন ভুক্তভোগীরা নিজের দেশের নাগরিক হয়েও রাষ্ট্রের কাছে পুনরায় নিজেদের পরিচয় প্রমাণের আইনি জটিলতায় পড়েছেন।