যুক্তরাষ্ট্রের ভলিবল সংস্থা (ইউএসএ ভলিবল) জানিয়েছে যে, নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষায় তারা জেনেটিক লিঙ্গ পরীক্ষার নিয়মে পরিবর্তন আনতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল ফেডারেশন (এফআইভিবি) এবং মার্কিন নারী জাতীয় দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর সংস্থাটি জানিয়েছে, এসআরওয়াই (SRY) স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার বিষয়ে তারা একটি গঠনমূলক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি নারী ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায্য প্রতিযোগিতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে।
পটভূমি
ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির ২০২৬ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিকসহ আন্তর্জাতিক আসরে নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জৈবিক নারীদের যোগ্যতা নির্ধারণে একবার এসআরওয়াই জিন স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এফআইভিবি তাদের ২০২৬ সালের ক্রীড়া বিধিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমানে কোনো খেলোয়াড়ের শরীরে ওয়াই ক্রোমোজোমের উপস্থিতি থাকলে তাকে পুরুষ বিভাগে রাখা হয়। তবে কোনো খেলোয়াড় যদি প্রমাণ করতে পারেন যে এতে কোনো প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নেই, তবে তিনি বিভাগ পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন।
অভিভাবকদের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বাইরে স্থানীয় ক্লাব পর্যায়ের লিগগুলোতে এই নিয়ম প্রয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ভলিবল খেলার সাথে যুক্ত তিনটি পরিবার জানিয়েছে, তাদের মেয়েরা এমন একটি লিগে খেলেছে যেখানে একজন ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন। অভিভাবকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের জন্মগত লিঙ্গ পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও পরিবর্তিত জন্মসনদ ব্যবহার করে তাকে নারী বিভাগে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী খেলোয়াড় ও তাদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতির কারণে তারা হতাশ ও অপমানিত বোধ করছেন। তাদের দাবি, পুরুষ খেলোয়াড়দের উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা নারী খেলোয়াড়দের তুলনায় বেশি হওয়ায় খেলার মাঠে ভারসাম্য বজায় থাকছে না। এটি নারী অ্যাথলেটদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের সুযোগ ও স্কলারশিপের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অভিভাবকরা ভলিবল সংস্থাকে এই বিষয়ে আরও কঠোর ও সামঞ্জস্যপূর্ণ যাচাইকরণ পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।