আইসল্যান্ডের রেইকজাভিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেছে আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থোরগেরদুর ক্যাটরিন গুনারসদোত্তির এই পোস্টকে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন। কূটনৈতিক পরিভাষায় কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা মূলত সংশ্লিষ্ট দেশের কোনো কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানানোর আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প একটি মানচিত্র পোস্ট করেন। এতে আইসল্যান্ড, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, মেক্সিকোসহ মধ্য আমেরিকার দেশ ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার নকশা দিয়ে ঢেকে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। গত মাসেই বিলি লং আইসল্যান্ডে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
এই মানচিত্র নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ মার্কিন অন্তর্ভুক্তিতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, মেক্সিকো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং কখনোই কোনো দেশের আশ্রিত রাষ্ট্র হবে না।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ এবং কানাডাকে মার্কিন অঙ্গরাজ্য করার আহ্বানসহ ট্রাম্পের বিভিন্ন ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। ইউরোপীয় কমিশন গ্রিনল্যান্ডে ২০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ট্রাম্প এই মানচিত্রটি পোস্ট করেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন বলে ট্রাম্প অতীতে বারবার দাবি করে এসেছেন।