যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্কে আয়োজিত বার্ষিক আইফোন ইভেন্টে অ্যাপল তাদের নতুন প্রিমিয়াম ডিভাইসগুলো সামনে আনলেও বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন এয়ার ২-এর ঘোষণা দেয়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও গ্রাহকদের প্রত্যাশা থাকলেও নতুন এই লাইটওয়েট ফোনের অনুপস্থিতি অ্যাপল ভক্তদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে।
গত বছর মুক্তি পাওয়া আইফোন ১৭ এয়ার ৫.৬ মিলিমিটার পুরু এবং ১৬৫ গ্রাম ওজনের ছিল। ৯৯৯ ডলারের এই ফোনটি সাধারণ আইফোন এবং প্রো মডেলের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আইফোন এয়ারের বিক্রি প্রত্যাশামতো ছিল না, তবুও এটি অ্যাপলের ফোল্ডেবল ফোন বা আইফোন ডুয়োর প্রযুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
বর্তমানে আইফোন এয়ারের মতো সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় এবং অ্যাপল তাদের প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেটের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় ক্রেতাদের এখন ১১৯৯ ডলার থেকে শুরু করে ৩১৯৯ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। সিনেটের জরিপ অনুযায়ী, ৭৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ফোল্ডেবল ফোনের প্রতি আগ্রহী নন এবং তারা ১০০০ ডলারের নিচে স্মার্টফোন কিনতে পছন্দ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রিমিয়াম ফোনের ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়ায় বাজেটের মধ্যে ভালো স্মার্টফোন পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে।
আইডিসি ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকারের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক নাবিলার পোফালের মতে, অ্যাপল কৌশলগত কারণেই হয়তো আইফোন এয়ার ২-কে আগামী বসন্তের কোনো ইভেন্টের জন্য সরিয়ে রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আইফোন ১৮ এবং ১৮ই এর সাথে সাশ্রয়ী মূল্যের এয়ার ২ বাজারে আনা হতে পারে, যা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী অ্যাপলের পণ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।