যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার দাবির সত্যতা যাচাই করতে শত শত জ্যোতির্বিজ্ঞানীর মতামত নিয়েছেন। এই জরিপটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটি কোনো বড় বৈজ্ঞানিক দাবির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
২০২৫ সালে ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে দুটি বড় ঘোষণা এসেছিল। একটি ছিল কে২-১৮বি (K2-18b) নামক এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে, যেখানে জৈবিক ক্রিয়াকলাপের সংকেত পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। অপরটি ছিল মঙ্গলের ‘শেয়াভা ফলস’ নামক পাথরের নমুনা, যা নিয়ে নাসার প্রশাসক শন ডাফি দাবি করেছিলেন এটিই মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই এই দাবিগুলো নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। কে২-১৮বি গ্রহে ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনার বিষয়ে মাত্র ৬.৬ শতাংশ বিজ্ঞানী সম্মতি দিয়েছেন। অন্যদিকে মঙ্গলের পাথরের নমুনার ক্ষেত্রে ১৫.১ শতাংশ বিজ্ঞানী ইতিবাচক মত দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিজ্ঞানী কে২-১৮বি-এর প্রাণের দাবির সাথে একমত নন এবং মঙ্গলের ক্ষেত্রে এই অমত পোষণকারীর হার ৪৪.৬ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, বিজ্ঞানীরা কোনো দাবিকে সরাসরি নাকচ না করলেও সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে মানতে নারাজ। এই অনিশ্চয়তার কারণ হলো, প্রকৃতিতে অনেক সময় প্রাণের সংকেত ছাড়াও জীবনসদৃশ বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হতে পারে। জরিপটি পরিচালনা করা গবেষক দলের দাবি, বিজ্ঞান মানেই কেবল হ্যাঁ বা না নয়, বরং গবেষণার মাধ্যমে তথ্যের ধীরে ধীরে বিবর্তন ঘটা। তাই বড় কোনো বৈজ্ঞানিক দাবির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মহলের সামগ্রিক মতামত যাচাই করা জরুরি।