পর্তুগালের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অভিবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও, দেশটিতে নতুন আসা ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এক বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ, নিপীড়ন বা অভাবের দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার ক্ষত বয়ে নিয়ে আসছেন, যা পর্তুগালের মাটিতেও বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়ে আরও গভীর হচ্ছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- পর্তুগালের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অভিবাসন বর্তমানে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
- দেশটিতে আসার দীর্ঘ পথ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিবাসীরা তীব্র মানসিক ট্রমার শিকার হচ্ছেন।
- চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর উসকানিমূলক বক্তব্য অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মনোভাবকে উসকে দিচ্ছে।
- ভাষাগত পার্থক্য এবং সাংস্কৃতিক কুসংস্কারের কারণে অভিবাসীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পর্তুগাল বর্তমানে অভিবাসীদের শ্রমের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল, তবে এই নতুন নাগরিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অসংখ্য অভিবাসী তাদের নিজ দেশে ফেলে আসা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি বয়ে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রাপথের ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক অবস্থাকে নাজুক করে তোলে। পর্তুগালে পৌঁছানোর পর তারা যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, তা তাদের ট্রমাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে চরম ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং অভিবাসনবিরোধী কড়া বা কঠোর বক্তব্য সমাজে বর্ণবাদের বীজ বপন করছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
এই মানসিক সংকট মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা। অনেক অভিবাসী পর্তুগিজ ভাষায় দক্ষ না হওয়ায় চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের কষ্টের কথাগুলো খুলে বলতে পারেন না। এছাড়া, অনেক সংস্কৃতিতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার বিষয়টি ট্যাবুর মতো দেখা হয়, যা তাদের পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।
বিশ্লেষণ
পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও, তাদের সামাজিক একীভূতকরণের (Social Integration) ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত। রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং উগ্র ডানপন্থার প্রসার অভিবাসীদের জন্য কেবল আইনি চ্যালেঞ্জই তৈরি করছে না, বরং তাদের দৈনন্দিন জীবনে এক ধরনের মানসিক চাপের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। যদি এই অভিবাসীরা দীর্ঘমেয়াদী ট্রমা বা ডিপ্রেশনে ভোগেন, তবে তা পর্তুগালের শ্রমবাজার এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কার্যকর সমাধান হিসেবে ভাষাগত সহায়তাসহ সাংস্কৃতিক সংবেদনশীল মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করলেও পর্তুগালকে দীর্ঘমেয়াদী এক সামাজিক সংকটের ঝুঁকি বয়ে বেড়াতে হবে।
সূত্র: rfi.fr