বেলুচিস্তানের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের অন্য প্রদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে এই অঞ্চলের মেধাবীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের গভর্নর জাফর খান মান্দোখাইল।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং চাকরির নিরাপত্তাহীনতার কারণে বেলুচিস্তানের অভিজ্ঞ অধ্যাপকরা অন্য প্রদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
- গভর্নর জাফর খান মান্দোখাইল এই প্রবণতা রোধে একটি সমন্বিত নীতি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন।
- প্রদেশের দূরবর্তী জেলাগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাম্পাসগুলোতে বর্তমানে চরম অবকাঠামোগত সংকট বিরাজ করছে।
- সরকার শিক্ষকদের জন্য চাকরির নিরাপত্তা এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বেলুচিস্তানের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে গভর্নর জাফর খান মান্দোখাইল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রদেশটির শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে মেধা পাচারের (Brain Drain) সংকটে ভুগছে। তিনি জানান, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং কর্মক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মেধাবী শিক্ষকদের অন্য প্রদেশে চলে যেতে বাধ্য করছে।
গভর্নর স্পষ্ট করেন যে, বিশেষ করে দূরবর্তী জেলাগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবকাঠামোর করুণ দশা উচ্চশিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি কার্যকর পলিসি বা নীতি তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, যার মূল লক্ষ্য হবে মেধা পাচার রোধ করে মেধা ধরে রাখা (Brain Gain)। মান্দোখাইল আরও জানিয়েছেন, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকদের জন্য সরকার খুব দ্রুত চাকরির নিশ্চয়তা ও আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা করবে, যাতে তারা পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে শিক্ষাদান ও গবেষণায় নিয়োজিত হতে পারেন।
বিশ্লেষণ
একটি অঞ্চলের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো তার শিক্ষা ব্যবস্থা। বেলুচিস্তানে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের চলে যাওয়ার এই ঘটনা কেবল শিক্ষা খাতের ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথেও একটি বড় বাধা। কোনো এলাকায় উচ্চশিক্ষিত জনশক্তি ও দক্ষ শিক্ষকের অভাব থাকলে সেখানে উদ্ভাবন ও গবেষণার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। গভর্নর মান্দোখাইলের এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও, এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাজেটের সঠিক বরাদ্দের ওপর। যদি দ্রুত শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা ও উন্নত গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা না যায়, তবে প্রদেশটি মেধাশূন্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে, যা বেলুচিস্তানের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: dawn.com