যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ডব্লিউএনবিএ ম্যাচে ইন্ডিয়ানা ফিভারের সোফি কানিংহামকে বিপজ্জনক ফাউল করায় শিকাগো স্কাইয়ের খেলোয়াড় দিজোনাই কারিংটনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে কারিংটন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থ্রেডস-এ ‘হোয়াইট প্রিভিলেজ’ লিখে পোস্ট করলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্ম দেয়। খেলাধুলা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে বর্ণবাদের আলোচনার দিকে মোড় নিয়েছে।
ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের শেষদিকে ইন্ডিয়ানা ফিভারের গার্ড সোফি কানিংহাম লে-আপ করার চেষ্টা করলে কারিংটন তার মাথার বাম দিকে সজোরে আঘাত করেন। এতে কানিংহাম মাটিতে পড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে উঠে কারিংটনের মুখোমুখি হন। পরে সতীর্থরা তাদের আলাদা করেন। রেফারিরা ভিডিও পর্যালোচনার পর এই ফাউলটিকে ‘ফ্ল্যাগরাস্ট টু’ হিসেবে গণ্য করেন এবং কারিংটনকে সরাসরি মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। এর আগে চার মিনিট খেলে তিনি আট পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিলেন।
ঘটনার পর সোফি কানিংহাম বলেন, আমি মনে করি লিগ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে। এর সাথে বর্ণের কোনো সম্পর্ক নেই। গত বছর আমিও এমন একটি ফাউল করেছিলাম এবং বহিষ্কৃত হয়েছিলাম, যা সঠিক ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো কারণ নেই। ফাউলটি অপ্রয়োজনীয় ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শিকাগো স্কাইয়ের কোচ টাইলার মার্শ এই পোস্ট সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, বিষয়টি মাত্র জানলাম। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে এটি সমাধান করব। ইন্ডিয়ানা ফিভারের কোচ স্টেফানি হোয়াইট জানান, ফাউলটি কঠিন ছিল। কারিংটন হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেননি, তবে রেফারি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।
রেফারি মাজ ফরসবার্গ জানান, কানিংহামের প্রতিক্রিয়া ছিল পরিস্থিতির তুলনায় স্বাভাবিক, তাই তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের নিয়ে মন্তব্যের কারণে কানিংহাম নিজেও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন, যার প্রভাব ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের বাইরেও দেখা যাচ্ছে। একই ম্যাচে ইন্ডিয়ানা ফিভারের তারকা ক্যাটলিন ক্লার্ক একটি টেকনিক্যাল ফাউল পেলেও ম্যাচ শেষে তা তুলে নেওয়ায় তিনি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।