যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এআই ল্যাব ও সরকারি নীতিনির্ধারকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বড় ধরনের কৌশলগত ভুল করছে বলে মত দিয়েছেন ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর রায়ান ব্রবস্ট। তার মতে, এআই ল্যাবগুলো মূলত রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক (CBRN) ঝুঁকির ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রচলিত অস্ত্র বা বিস্ফোরক তৈরিতে এআই ব্যবহারের মতো বাস্তব ও সম্ভাব্য হুমকিগুলো আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে আইসিস ও বোকো হারামের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আক্রমণ পরিকল্পনা, অস্ত্র ত্রুটি সংশোধন এবং বিস্ফোরক তৈরির নকশা তৈরিতে দক্ষ হয়ে উঠছে। এমনকি জানুয়ারি ২০২৫ সালে লাস ভেগাসের সাইবারট্রাক বোমা হামলা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাডায় স্কুল বন্দুকধারীর হামলায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের মতো ঘটনাগুলো এআই অপব্যবহারের প্রাথমিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রচলিত যুদ্ধের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বের বড় বড় দেশগুলো তাদের সামরিক কার্যক্রমে এআই অন্তর্ভুক্ত করছে, যার ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোও পিছিয়ে থাকছে না। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও লজিস্টিক দুর্বলতার কারণে আগে অনেক সন্ত্রাসী হামলা ব্যর্থ হলেও, এখন এআই-এর সহায়তায় সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশিকা পেয়ে হামলাকারীরা তাদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বোস্টন ম্যারাথন হামলার মতো ছোট আকারের হামলাগুলোকে ওকলাহোমা সিটি হামলার মতো ধ্বংসাত্মক রূপ দেওয়া সম্ভব। এছাড়া, এআই ব্যবহার করে বিদেশি ভাষার প্রযুক্তিগত ম্যানুয়াল বা অস্ত্র পরিচালনার ভিডিও অনুবাদ করে সহজেই ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। এটি জঙ্গিদের সামরিক সক্ষমতাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিচ্ছে।
এই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তি ল্যাবগুলোকে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, CBRN ঝুঁকির পাশাপাশি প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৎপরতা শনাক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রচলিত অস্ত্রের নকশা বা কৌশলগত নির্দেশিকা প্রদানে এআই-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে।