যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি ধীর করার বিষয়ে এটি আইনত বৈধ কি না, তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছে ওপেনএআই। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো শিল্পখাতজুড়ে সমন্বয় প্রয়োজন, কিন্তু অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ উদ্যোগে যোগ দিতে দ্বিধা বোধ করছে।
সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জ্যাকুব পাচোস্কি এক ব্লগ পোস্টে যুক্তি দিয়েছেন যে, স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নয়নের গতি কমিয়ে আনা জরুরি। তিনি মনে করেন, সাধারণ নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছায় উন্নয়নের গতি ধীর করার প্রবণতা বাড়বে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই ল্যাবগুলোর মধ্যে সমন্বয় বা উৎপাদন সীমিত করার প্রচেষ্টা শারম্যান অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। যদিও আইনটি কোনো নির্দিষ্ট চুক্তির খুঁটিনাটির ওপর নির্ভর করে, তবুও আইনি জটিলতার ভয় বড় কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করছে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে এ বিষয়ে সাড়া মিলছে। গত জুলাই মাসে উভয় দলের আইন প্রণেতারা একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যা এআই ল্যাবগুলোকে অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের ঝুঁকি ছাড়াই নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এআই শিল্পের অন্য একটি পক্ষ মনে করছে, অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের দোহাই আসলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার আড়ালে একটি অজুহাত মাত্র। তাদের মতে, বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং চীনের সাথে প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার বিষয়টিই মূলত কোম্পানিগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার। ওপেনএআইয়ের সাবেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা জন শুলম্যানও দাবি করেছেন, অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের কথা বলে আসলে যৌথ প্রস্তাবনা তৈরির পথ বন্ধ করা হচ্ছে, যা কাম্য নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই মডেলগুলোর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে ওপেনএআই এজেন্টদের হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনায় শিল্পের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা আইন প্রণেতাদের এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।