ভারতের নয়াদিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের দুই পক্ষকে আলাদাভাবে ডেকে তাদের যুক্তি শুনবে কমিশন, যা দলটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী শনিবার দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের দপ্তরে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, বেলা ১১টায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং দুপুর ১২টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। প্রতিটি পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে প্রতিনিধি এই শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। শুনানির পরই প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনিই ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি নকশা করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর দলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। ২৯৪ আসনের মধ্যে দলটি মাত্র ৮০টি আসন পাওয়ায় বিধায়কদের বড় একটি অংশ মমতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিদ্রোহী হন। ৬৫ জন বিধায়ক দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন বলয় তৈরি করেন, যারা এখন বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা ভোগ করছেন।
উপনির্বাচন ও প্রতীকের লড়াই
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ সেপ্টেম্বর হওয়ায় প্রতীক কার থাকবে তা নিয়ে উত্তেজনা চরমে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের দাবি, দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও নেতা তাঁদের সাথে থাকায় নিয়ম অনুযায়ী জোড়াফুল প্রতীক তাঁদের প্রাপ্য। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশের দাবি, দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রতীকটির ওপর তাঁরই আইনগত ও নৈতিক অধিকার রয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন।