যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে পেন্টাগনের প্রস্তাবিত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের রিকনসিলিয়েশন তহবিল অনুমোদন না পাওয়া গেলে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর ব্যয় মূল বাজেটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে তারা তাদের বড় প্রকল্পগুলোকে বাজেট সংকটের হাত থেকে রক্ষা করতে চাচ্ছে।
জুলস হার্স্ট জানিয়েছেন, যদি কংগ্রেস পুরো অর্থ বরাদ্দ না করে, তবে পেন্টাগন আইনপ্রণেতাদের সাথে আলোচনা করে অন্যান্য খাতের বিনিয়োগ কাটছাঁট করবে অথবা ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেবে। তবে ঠিক কোন প্রকল্পগুলোতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, কিছু প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র দ্রুত পরিবর্তনশীল, যেখানে এখনই বিনিয়োগ প্রয়োজন, আবার কিছু খাতে গবেষণার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।
পেন্টাগন আগামী বছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট প্রস্তাব করেছিল, যার মধ্যে ১.১৫ ট্রিলিয়ন মূল বাজেটের অংশ এবং ৩৫০ বিলিয়ন ডলার রিকনসিলিয়েশন বিলের অন্তর্ভুক্ত। গোল্ডেন ডোম, যুদ্ধাস্ত্র এবং ডিফেন্স অটোনোমাস ওয়ারফেয়ার গ্রুপের (DAWG) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো এই রিকনসিলিয়েশন তহবিলের ওপর নির্ভরশীল।
২০২৭ অর্থবছর শুরু হতে তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও কংগ্রেস এখনো রিকনসিলিয়েশন বিল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বাজেট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা পেন্টাগন আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি কন্টিনিউয়িং রেজুলেশন (CR)-এর মাধ্যমে কার্যক্রম চালাচ্ছে। হার্স্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই প্রক্রিয়ার কারণে বাজেট অনুমোদনের বিষয়টি আগামী ক্যালেন্ডার বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্পেস ফোর্সের জেনারেল মাইকেল গেটলেইন সতর্ক করেছেন যে, অর্থায়ন না পাওয়া গেলে অক্টোবরে গোল্ডেন ডোম প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ থমকে যেতে পারে। এছাড়া লেফট্যানেন্ট জেনারেল স্টিভেন মার্কস জানিয়েছেন, ড্রোন উন্নয়ন কর্মসূচি DAWG-এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল না পেলে এই খাতের গতি হারিয়ে যাবে। পেন্টাগন তাদের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলোর জন্য আইনপ্রণেতাদের সাথে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।