বাংলাদেশের বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় ফের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি দুর্ঘটনার পর সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এর আগে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ইয়াসিন আরাফাতের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবারকে ১০ লাখ টাকা এবং বিআরটিসি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে আরও সাত লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে শিক্ষার্থীরা এই ১৭ লাখ টাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
শিক্ষার্থী মো. রাজিব জানান, দুপুরে আলোচনার সময় প্রশাসন দাবি মানার আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি অবহেলা দেখাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উপাচার্য মামুন আর রশিদ জানান, নিয়মানুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া বিআরটিসি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ আরও সাত লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রবিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ঢালে বাস ও থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইয়াসিন আরাফাতসহ ছয়জন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইয়াসিনের মৃত্যু হয়। সহপাঠীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে আড়াই ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছে, যা ছিল চূড়ান্ত অবহেলা।
নিহত ইয়াসিন আরাফাতের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ডেরাজান গ্রামে। সোমবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।