যুক্তরাজ্যের লন্ডনে তীব্র ঋণসংকট ও সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয়করণের ঝুঁকির মুখে থাকা পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেমস ওয়াটার তাদের ফাইন্যান্স প্রধান স্টিভ বাককে ১০ লাখ পাউন্ডের সাইনিং-অন ফি দিয়েছে। গত জুলাই মাসে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান স্যার অ্যাড্রিয়ান মন্টাগু।
প্রতিষ্ঠানটির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। হাউস অব কমন্সের পরিবেশ বিষয়ক কমিটিকে দেওয়া এক চিঠিতে স্যার অ্যাড্রিয়ান স্বীকার করেন, সাধারণ গ্রাহকরা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন বিশাল অংকের অর্থ প্রদানকে অন্যায্য মনে করতে পারেন। তবে তিনি দাবি করেন, দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে এবং নতুন প্রতিভা আকৃষ্ট করতে এই অর্থ প্রদান ‘প্রয়োজনীয়’। তিনি আরও জানান, এই অর্থ কোম্পানির নিজস্ব নয়, বরং ঋণদাতাদের দেওয়া জরুরি তহবিল থেকে মেটানো হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
স্যার অ্যাড্রিয়ান জানান, কোম্পানির বর্তমানে যে সংকট চলছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য অভিজ্ঞ জনবলের প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, টেমস ওয়াটারের অনেক কর্মকর্তার বাইরের কোম্পানিতে আরও বেশি বেতনের সুযোগ রয়েছে, যেখানে কাজের চাপও অনেক কম। তাই কোম্পানিকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে এমন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সরকারের অবস্থান
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যে কোম্পানি চরম অব্যবস্থাপনার পরিচয় দিচ্ছে, তাদের কর্মকর্তাদের এভাবে বড় অংকের অর্থ দেওয়া ঠিক নয়। সরকার এরই মধ্যে দূষণকারী পানি কোম্পানিগুলোর জন্য বোনাস ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করেছে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এমপি এবং পরিবেশ কমিটির প্রধান অ্যালিস্টেয়ার কারমাইকেল বলেছেন, এই অর্থ গ্রাহকদের সেবার মান উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত ছিল। বর্তমানে টেমস ওয়াটারের ওপর প্রায় ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের ঋণের বোঝা রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কোম্পানিটিকে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বা সাময়িক রাষ্ট্রীয়করণের অধীনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বছর নিয়ম ভঙ্গের দায়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট টেমস ওয়াটারকে ১২২.৭ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা করেছিল। এখন পর্যন্ত ১৬ মিলিয়ন গ্রাহককে সেবা দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।