যুক্তরাষ্ট্রের লিবার ইনস্টিটিউট ফর ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট এবং ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বারি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসাকেন্দ্রের গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিজোফ্রেনিয়ার জটিল জিনগত রহস্য উন্মোচন করেছেন। নেচার জেনেটিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিজোফ্রেনিয়া কোনো একক জিনের মিউটেশনের কারণে হয় না, বরং শত শত জিনগত ভেরিয়েন্টের সম্মিলিত প্রভাবে এই রোগটি দেখা দেয়। গবেষকরা এই তথ্যকে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি রোগের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত চিত্র প্রদান করেছে।
গবেষণা পদ্ধতি
গবেষক দল ১০ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের জিনগত তথ্য এবং বিভিন্ন দাতার মস্তিষ্ক থেকে সংগৃহীত কোষের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। এআই-ভিত্তিক কম্পিউটেশনাল মডেল ব্যবহার করে তারা মানুষের মস্তিষ্কের হাজার হাজার জিনের পারস্পরিক কার্যক্রম পুনর্গঠন করেছেন। এতে সিজোফ্রেনিয়ার সাথে যুক্ত মোট ৭৬৬টি জিন শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪১টি জিন সম্পর্কে আগে কোনো তথ্য ছিল না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিজোফ্রেনিয়া কোনো বিচ্ছিন্ন জিনগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি আন্তঃসংযুক্ত নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। এতদিন গবেষকরা কেবল হাতেগোনা কয়েকটি জিনের প্রভাব দেখতে পেতেন, কিন্তু নতুন এই এআই মডেল পুরো জিনগত ম্যাপটি উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, জিনের ভেরিয়েন্টগুলো আলাদাভাবে কাজ করার পরিবর্তে সমন্বিতভাবে রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
সিজোফ্রেনিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্তরা হ্যালুসিনেশন, বিভ্রান্তি এবং চিন্তার বিশৃঙ্খলার মতো সমস্যায় ভোগেন। যদিও পারিবারিক ইতিহাসের সাথে এই রোগের যোগসূত্র রয়েছে, তবুও যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস নেই, তারাও অনেক সময় এতে আক্রান্ত হতে পারেন। নতুন এই জিনগত ম্যাপটি এখন গবেষকদের জন্য রোগের আচরণ বোঝা এবং কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হবে।